Monday, March 21, 2016

ভ্রুৎ করে


কাল না কি বিশ্ব চড়ুই দিবস ছিল। অনেক রাতে জানলাম। জানলাম যাঁর থেকে তাঁকে অন্য অনেকের মতোই প্রবাস জীবনের গানবুভুক্ষু অবস্থায় ইউটিউবের জন্যে চিনেছিলাম, পরে ফেসবুকে খুঁজে পেয়েছি... চঞ্চল চক্রবর্তী।

               মোবাইল টাওয়ারের উৎপাতে চড়ুইরা যে বিপন্ন আমরা জানি। চড়ুই দিবস পালন করে চড়ুইদের কি উপকার হ'বে ঠিক জানি না। যেখানে থাকি, এখনো চড়ুইদের দেখা পাই। অবশ্য তার কিছুটা কারণ আমার শ্বাশুড়ী এবং আমার মা দু'জনেই চড়ুইদের জন্যে খাবার রেখে দেন নির্দিষ্ট জায়গায়।

              চড়ুইকে চড়ুই বলতেই ভালো লাগে আমার। ওই শব্দের ধ্বনির মধ্যে যেন তার ভ্রুৎ করে উড়ে যাওয়াটাও আছে। ভ্রুৎ করে। এটার কপিরাইট আমার আর আমার দাদার। দু'জনের মধ্যে কার মাথা থেকে বেরিয়েছিল মনে নেই, তাই কপিরাইট্‌টা দু'জনের। চড়ুইপাখি নিয়ে আমাদের অনেক মাথাব্যথা ছিল ছোটবেলা থেকে। ওদের উড়ে যাওয়ার সময়ে যে শব্দটা হয় তাকে 'ফুড়ুৎ' বললে যেন বড় ফিকে লাগে। তাই ভ্রুৎ। আমেরিকায় সবকিছু ইয়া বড় বড়, কিন্তু মশা আর চড়ুইপাখি যে এদেশের মত এক সাইz-এর সেটা প্রথম দেখে ভালো লেগেছিল, আর বাড়িতেও পাঠানো প্রথম চিঠি/ইমেলের মধ্যে লিখেছিলাম কাউকে না কাউকে। আজকাল এ তল্লাটে খুব একটা লিখতে ইচ্ছে করে না। বেশি কিছু বললেই একটু পরে বেজায় বোকা বোকা লাগতে আরম্ভ করে। বোঝাই যাচ্ছে স্মৃতিমেদুরতার জেরে বকবক করছি। যাক গে।না-ই বা বুঝুক বেবাক লোকে। চড়ুইরা যেন শুধু স্মৃতি হয়ে না যায়। ছোট্ট ছাগলছানার ছটফটানি, একটু বড় হয়ে যাওয়া বেড়ালছানার-- মানে না-বেড়াল-না-ছানা্‌র-- কীর্তিকলাপ আর চড়ুইপাখিদের কিচমিচ শোনা/দেখার অকারণ আনন্দ থেকে আমাদের পরের প্রজন্মরা যেন বঞ্চিত না হ'ন।

              আমাদের ভাষায় চড়ুইপাখিদের নিয়ে গান একটামাত্রই শুনেছি। আরেকটা গানের কথা জানি, গানটা যদিও শুনিনি। দু'টো  গানের রচয়িতা এক। গানের সূত্রেই চড়ুই দিবসের কথা জানলাম তাই আমার শোনা সেই  ছোট্ট গানের কথাগুলো লিখে দিই।

চার লাইনের গান

হয়তো দেখেছো চার-পাঁচ ফোঁটা জলে
চার সেকেন্ডে চড়ুই পাখির স্নান
আমিও এখন সেই পাখিটার দলে
শুনিয়ে দিলাম চার লাইনের গান।
                         - কবীর সুমন
             
               ছবিটা কয়েক মাস আগে বিকানের শহরের লালগড় প্যালেসে তোলা।

Tuesday, July 28, 2015

If you can gift ONE new cotton saree to a woman in a village, please read on. Either way, it would help if you spread the word.
Sarees collected will be distributed in villages near Kamapara, Birbhum.

Thursday, June 18, 2015

Requiem

            A series of deaths reported in the media within a space of few days has stirred me like many other people. I had not yet absorbed the news of Rajasri Basu and her son Soumyadeep's sudden death while touring Ladakh when the news of the De family on Robinson Street hit the headlines. I knew Rajasri Basu and Soumyadeep, and I knew Debjani De.
            I knew Rajasridi as a junior colleague of my father's. Rajasridi kept in touch after my father's retirement and always inquired about our well-being. Theirs was an accomplished family of individuals who were also unpretentious and good at heart, qualities which were being emphasized in all the accounts surfacing in the media since the accident.  I had last seen Soumyadeep when he was very young, and remember him as a very bright child. He seems to have lived up to his initial promise, and there was so much more in him to give to the world. No one has any words for Padmanava Basu. My father and his friends chose to grieve silently with their families.
            Watching the news reportage of the Robinson Street case, I suddenly realized that one of the persons it was about had been a music teacher in my school. As far as I recall, we were in our very senior years -- well past the time we had music lessons -- when Debjani De joined Calcutta Girls' High School. Tall and bespectacled, she had an appearance that stood out in a crowd.  While I had never been her direct student, she impressed upon me as being thoughtful and sensitive, impressions that were further confirmed in a chance dealing with her.
            It was still the age of film cameras. I was taking pictures of school, like many of my friends. I would carry my father's Yashica Electro 35 to school on occasions. I wanted some pictures of the baby grand piano in the auditorium. I took some from a few angles, and was wishing someone was playing on it, and half-wishing that the person would also allow me to take photographs. My wishes, half and full, all came true as Ms De came up to the piano and started practising. I took some photographs, and then stood by, wanting to thank her without disturbing. She seemed to understand my intentions, and looked at me, and smiled and nodded, and continued playing.[1]
            It has still not been established whose skeleton it is, and speculations of what happened in the De residence multiply day by day. Much of it is based on the words, spoken or written, of Partho De, although, every theory doing the rounds carries the huge disclaimer for an appendage as to the verity of his account. Whatever be the facts of the case, Partho's anomic behaviour is only the tip of the iceberg. There was much unhappiness shared between all the members of the family that I do not think we will ever know about. What business does anyone have of making public the medicines he is being given at Pavlov? Why should I get to see that stuff in the papers? Even if the personal diary of an individual may be used for investigation, why are its excerpts becoming public? Whether or not Partho is mentally ill, has he no right to privacy?
            I know where the pictures I took all those years ago are, but I will not scan them and put them up here or Facebook or anywhere else, for I want to be able to grieve on my own.



[1] I am hearing everywhere that Debjani De joined Calcutta Girls' High School in 1999. I wonder if she had joined earlier, for I left school in 1998, and do not think this meeting happened later than that. If I can locate the film strips, I would be able to ascertain the time from pictures taken before and after, but whatever be the date of the chance encounter, what passed is firmly etched on my memory.

Monday, April 7, 2014

Photos from Scout's Squint

If you happen to pass by Ho Chi Minh Sarani on 13/14/15 April (3 PM - 7 PM on the 13th, and 1 PM - 7 PM on the 14th and 15th), do drop in at the Nandalal Bose Gallery at ICCR... 3 photographs by yours truly will be on display :)

Check out the club's website here

Wednesday, March 26, 2014

দেবীপক্ষ


একটা অর্ধসমাপ্ত ছাঁটা ফুলের আসন, কিছু পুজোর বাসন আর দু’টো ছবি ছাড়া আমার না-দেখা ঠাকুমার স্মৃতিবাহক কোনকিছুই ছোটবেলা থেকে দেখিনি। মহালয়ার ভোরে চলে যান ছোট-বড় নানান বয়সী সন্তানদের রেখে। শুনেছি শেষ অবধি জ্ঞান ছিল।
        মামারবাড়ি না গেলে দাদু-দিদা স্থানীয় কারুর আদর পেতাম না আর বন্ধুদের কাছে তাদের ঠাকুর্দা বা ঠাকুমা বা দু’জনেরই গল্প শুনতাম, তাই বোধ হয় একটা অভাববোধ কাজ করেছে বরাবর। তা ছাড়াও হয়ত না-দেখা মানুষকে ভালবাসা যায় সহজে। সব মিলিয়ে ঠাকুমার সম্পর্কে কৌতূহল ছোটবেলা থেকেই ছিল। তাই দেখতে চললাম ঠাকুমার বাপের বাড়ির দুর্গাপুজো।
        কোনদিন যে বাড়িতে যাইনি, সেই হাটখোলার দত্তবাড়িতে নিশ্চয়ই পুজো হয় জানতাম। তার বিবরণও পেয়ে গেলাম ইন্টারনেটে। ছোটবেলায় যে ম্যাটাডোর ভ্যানে স্কুল যেতাম তার কল্যাণে উত্তর কলকাতার অনেক অলিগলিই ছিল আমার নখদর্পণে। কোন ঠিকানা নিয়ে আলোচনা হলে তাই আমি প্রায়ই বলতাম, “এখানে তো আমার ভ্যান যায়।” বলা বাহুল্য সেই নিয়ে হাসাহাসি হ’ত বিস্তর। তা ইন্টারনেটে ঠিকানা দেখে মনে হল ৭৮ নিমতলা ঘাট স্ট্রীটের সামনে দিয়ে আমার ভ্যান যেত। অর্থাৎ একটা সময় প্রায় রোজ আমি ঠাকুমার বাড়ির সামনে দিয়ে যাতায়াত করেছি।
        বিডন স্ট্রীট ধরে হাঁটছি নিমতলা অভিমুখে। উদ্দেশ্য, পায়ে হেঁটেই দত্তবাড়ি পৌঁছনো, আর পথে কোন পুজো থাকলে দেখা, ছবি তোলা। নবমীর দুপুরের বৃষ্টি টিপটিপ থেকে ঝিরঝিরের দিকে এগোচ্ছে। তবু তার মধ্যেই নজর কাড়ে এক ‘থিমপুজো’প্রবেশপথে প্রকান্ড হাঁড়িকাঠে মাথা রাখা বৃহৎ কালো ছাগমূর্তি, আর মন্ডপসজ্জার  লাল-কালো-সবুজের ভাষায় পশুবলিবিরোধিতার বার্তা সুস্পষ্ট। ক্যামেরা চলল। প্রগতিশীল, আধুনিক... আমার মত অনেক দর্শনার্থীরই এই শব্দদুটি মাথায় এসে থাকবে। শারদসম্মানের দৌড়ে নির্ঘাৎ এগিয়ে এই পুজো। ঠিকানা দেখতে দেখতে একই রাস্তায় এগোতে থাকি সাবেকিয়ানার সন্ধানে।
        বৃষ্টিটা ক্রমশ ঝিরঝির থেকে ঝমঝমে পৌঁছেছে। তাড়াতাড়ি পা চালাতে চালাতে দেখি ছেষট্টির পর নব্বইয়ে পৌঁছে গেছি। ...তাহ’লে সাদা-কমলা কাপড় লাগানো ফটকটাতেই ঢোকা উচিত ছিল... কিন্তু যদি সেটাই আটাত্তর না হয়? একটু পিছিয়ে গিয়ে দেখি ঠাকুরদালানের দুর্গা ফটক থেকেই দৃশ্যমান। ঠিকানা ৭৮।
        ঠাকুরদালানে পুরোহিত, দুর্গা আর আমি ছাড়া কয়েকটা ভেজা শালিক। নিদ্রাত্যাগ করে অতিথি আপ্যায়নে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন পুরোহিত। আমিও শ্রোতা পেয়ে বোঝাতে ব্যস্ত হয়ে যাই কেন এসেছি। বাড়ির সবাই তখন দুপুরের বিশ্রামে। সন্ধ্যের আরতির আগে কেউ নামবে না। জল থইথই করছে উঠোনে। জলের মধ্যে শালিক তিনটে খানিক পাগলামি করেই ফুড়ুৎ করে এসে বসছে আমার অল্প দূরেই। আবার উড়ে যাচ্ছে। প্রত্যেকবার উড়ে এসে আমার আরেকটু কাছে বসছে। পাশে রাখা পেডেস্টাল ফ্যান, চেয়ার, হাঁড়িকুড়ির মতই কিছু ভাবছে আমাকে। নাকি ভাবছে আমি বাড়ির লোক? মন্দ নয়।
        উঠোনের চারপাশ ঘিরে বাড়ি। পুরোটা জুড়েই সবাই থাকেন। হঠাৎ একপাশ থেকে বেরিয়ে এল দু’টি মেয়ে। শাড়ি পরে ছাতা হাতে মোবাইলে কথা বলতে বলতে উঠে যায় বাইরে এসে দাঁড়ানো মারুতিতে। কাদা বাঁচিয়ে। ওদের হেঁটে যাওয়া, উঠোনের জমা জলে ওদের প্রতিবিম্ব— খুব ভালো দেখাচ্ছে। ছবি তুলব না। মাথার মধ্যে জলছবি জমা হতে থাক। আমার ঠিক কে হয় এরা? কল্পনা করার চেষ্টা করি ওদের মতই অভ্যস্ত পদক্ষেপে ওই উঠোন পেরিয়ে যাচ্ছেন ঠাকুমা। পারি না। যুক্তি বাধ সাধে। মনে পড়ে ওদের বয়সে ঠাকুমা রোজই শাড়ি পরতেন, তবে এ বাড়িতে নয়। এ বাড়ির ক’টা পুজোই বা দেখেছিলেন? ভাবতে ইচ্ছে করে ঘুরঘুর করা শালিক আর পায়রাগুলোও বংশানুক্রমে ওই বাড়ির বাসিন্দা, তাদের পুর্বপুরুষদের সঙ্গে ঠাকুমার পরিচয় ছিল। কে জানে। খুব আশা করতে থাকি বাড়ির যে কর্তার সঙ্গে দেখা হওয়ার আশ্বাস পেয়েছি বংশলতিকা তাঁর কন্ঠস্থ, বাবার দাদামশাইয়ের নাম বললেই অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।
        ততক্ষণে পুরোহিত আমায় দু-কাপ চা খাইয়ে দিয়েছেন। বাড়ির কর্তা এসে পরিচয় দিয়ে স্বভাবসিদ্ধভাবে পুজো নিয়ে কিছু কথা বললেন, তাতে বুঝলাম দূরাত্মীয়দের আগমনে এঁরা অভ্যস্ত। বংশলতিকা নিয়ে বেশি বলতে পারলেন না তবে নেমন্তন্ন করলেন কালীপুজোর আর এগিয়ে দিলেন রাস্তা অবধি। বেরোতে বেরোতে পুজোর আচার নিয়ে কথা হতে থাকল।
-     -- রথের সময় থেকে দুর্গাপ্রতিমা তৈরী হয় ঠাকুরদালানে। অষ্টমীর দিন সিঁদুরখেলা হয়।
-     -- আচ্ছা, বলি হয়?
-     -- হ্যাঁ, হয় তো। ক্ষীরের আকৃতি বলি দেওয়া হয়।
-     -- তাই? দারুণ তো!
-     -- বলি দেখতে পাবেন না কিন্তু। পুরোহিত দেখেন শুধু। যেমন হয়ে আসছে আর কি।

    বৃষ্টি থেমেছে। হেঁটে ফিরতে ফিরতে দেখি পশুবলিবিরোধী আধুনিক বারোয়ারীর কাছে দর্শনার্থীদের ভিড় জমেছে। মাইকে ব্যাখ্যা ভেসে আসছে পুজোর থিমের অভিনবত্ব ও সময়োপযোগিতার।


TEXT © DURBA BASU 

Saturday, October 19, 2013

অধরা দশমী



নবমীর সাতসকালে হাওয়ায় পুজো পুজো গন্ধ, দূর থেকে ভেসে আসা ঢাকের মৃদু শব্দ, সবই ছিল। ছিল না শুধু রঙীন কাপড়ে-আলোতে মোড়া ফটক। বদলে, বিরাট কাঠের দরজার দু’পাশে রাখা মঙ্গলঘট। ঠিকানাটা মিলছে যখন, ঢুকে পড়লাম। সদর দরজা দিয়ে ঢুকেই একটু এগিয়ে থমকে যেতে হ’ল অপ্রত্যাশিত জানলার সামনে। গরাদের ফাঁক দিয়েই প্রথম দর্শন দিলেন পটলডাঙ্গার বসুমল্লিকবাড়ীর একচালা দুর্গাঠাকুর। নিকন-ক্যানন যার যা ছিল... খচাৎ উঠল ছবি। আবার খচাৎ... ছবি তোলার ছবি।
গলি পেরিয়ে, উঠোন পেরিয়ে পৌঁছে গেলাম ঠাকুরদালানে। লোক বলতে শান্ত হাতে পুজোর প্রস্তুতিতে মগ্ন পুরোহিত, লাল শাড়ী পরা ষাটোর্ধ্বা এক মহিলা, শ্বেতবসনা অশীতিপর এক বৃদ্ধা, আর আমরা তিনজন। লাল শাড়ী পরে কুমারীপুজোর কুমারী সাজতে বসেছে। ডিজিটাল যুগের কুমারীর সাজগোজের থালায় ফেসপাওডার, টিপ, চন্দন, আলতার পর সবশেষে আইলাইনার। আই মেক-আপ এক্সপার্ট হিসেবে তাই মোবাইলে ডাক পড়ল পরের প্রজন্মের। তেরো-চোদ্দ বছরের একটি মেয়ে এসে নিপুণ হাতে বুলিয়ে দিল শেষ প্রলেপ। এদিকে প্রসাধনের বিভিন্ন তুলির সুড়সুড়িতে মাঝেমধ্যেই হেসে ওঠে কুমারী। ফটাফট উঠতে থাকে তার ফোক্‌লা ক্যানডিড্‌ শ্বেতবসনার বনেদী আতিথ্যের আশকারায়। আটপৌরে করে সাদা থান পরা বৃদ্ধার হাতে চওড়া কালো কাপড়ের ব্যান্ডের ঘড়ি, কাঁধছাড়ানো সুবিন্যস্ত ঘন সাদা চুল। সজাগ, সপ্রতিভ, এমন কি স্টাইলিশ। পোর্ট্রেট তুলতে চাওয়াটাও নিতান্তই বেয়াদবি হয়ে যাবে ব’লে শুধু মুগ্ধচোখে দেখে গেলাম। নিজের গদগদ ভাবটা প্রকাশ করব ভেবেও সামলে নিলাম। বলা যায় না, যদি...? তাঁর হাতের ঘড়িটাই যে বাড়ীর পুজোকে বেঁধে রেখেছে নির্ঘন্টের সঙ্গে, তা খুব পরিষ্কার। উঠোনে বসা কিশোর ঢাকী অবাক চোখে দেখে যায় শহুরে দাদা-দিদিদের কান্ডকারখানা। কি এত ধরে রাখতে চাইছে এরা ক্যামেরায়? কি খুঁজে চলেছে খালি খালি? কি পালিয়ে যাবে ছবি না তুললে?
কাছাকাছি ঘোষালবাড়ীতে বা কলুটোলা স্ট্রীটে মতিলাল শীলের বাড়ীতেও মোটামুটি এক দৃশ্য। সক্কাল সক্কাল কূলধর্মরক্ষার্থে হাজির বাড়ীর ক’জন মহিলা, পুরোহিত, আর ঢাকী। অঞ্জলির ফুলের টানাটানি নেই, চটি হারাবার ভয় নেই, মাইক নেই।
কাঁসর বেজে ওঠে, ঢাকে কাঠি পড়ে। শুরু হয় কুমারীপুজো। কাঁসর থামলেই পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের শব্দ আর নেপথ্যে উঠোনে ঘুরপাক খাওয়া পায়রার বকমবকম, আর দোতলা থেকে লম্বা করে শুকোতে দেওয়া শাড়ীর লটরপটর

ঠাকুরদেখা-মাঝরাতের সন্ধিপুজো-রিহার্সাল-হইহই... হুড়মুড়িয়ে ক’দিনের জমা ক্লান্তি ঘুম হয়ে দেখা দেয় দশমীর দুপুরে। যতক্ষণে অতিপরিচিত কন্ঠস্বরে বিসর্জনের আয়োজনের খবর মাইকের কল্যাণে ভেসে আসে কানে, খুব দেরী হয়ে গেছে। এবার আর হ’ল না। স্কার্ট-টপেই নেমে যাই। কখনও শাঁখ বাজাই, কখনও তুলি ছবি। ভাবছি বরণের ছবি তোলা ফস্কালেও অন্ততঃ লালমুখো হওয়া থেকে বাঁচা গেল। এমন সময় এগিয়ে আসে একটা লাল হাত, তারপর আরেকটা। আরো একটা... চোখ বন্ধ হয়ে যায়। হঠাৎ মনে পড়ে যায় বসুমল্লিকবাড়ীর দুর্গার মুখ। কে এসেছে এখন তার বিদায়বেলায়? বাড়ির ক’জনেই হয়ত শান্ত বিদায় জানাচ্ছে তাঁকে। হয়ত বনেদী বাড়ীর সিঁদুরখেলার ছবি তুলতে চলে এসেছেন ফটোগ্রাফাররা। অদেখা ছবি উঠতে থাকে মাথার মধ্যে। হয়ত এসব মুহূর্তের রহস্য আর রহস্য থাকতে দেবে না ফেসবুক। কে জানে। ভাল লাগে না। মানসক্যামেরায় কি ধরে রাখতে চাইছি আমি? কি পালিয়ে যাবে ওই ছবিটা বদলে গেলে? সত্যি ছবি কোনটা? কে জানে। ক’দিন বাদে আমিও তো যাব বাড়ীর থেকে বাড়ী।

TEXT © DURBA BASU

Tuesday, July 23, 2013

From the Hudson to the Mississippi

Here is the first page of my article on our blues road trip, published in Jara Parijayee's June-July 2013 issue, now on the stands.


Text and images © DURBA BASU

Wednesday, May 15, 2013

Heaven’s Edge: The Photography of Sebastião Salgado















In the Upper Xingu region of Brazil’s Mato Grosso state, a group of Waura Indians fish in the Puilanga Lake near their village. The Upper Xingu Basin is home to an ethnically-diverse population, with the 2,500 inhabitants of 13 villages speaking languages with distinct Carib, Tupi and Arawak roots. While they occupy different territories and preserve their own cultural identities, they co-exist in peace. Brazil. July, August and September 2005.

©Sebastiao SALGADO / Amazonas Images / NB Pictures

________________________________________________________


 "... [T]he deepest quality of a work of art
 will always be the quality of the mind 
of the producer."
                                      - Henry James



          I have been preoccupied for some time now with the much-awaited publication of the Brazilian photographer Sebastião Salgado’s mammoth project entitled Genesis. I first learnt about Sebastião Salgado through Parvati Nair’s work, although at the time I had no access to his pictures. It was not until after I began to actively pursue my interest in photography and started looking at the work of classic and contemporary photographers that I delved into Salgado's works, and like countless viewers, found myself completely enthralled. Like the profoundest works of art, Salgado’s photographs are awe-inspiring and humbling to say the least. It is impossible to be sensitive and not to respond to them in some way, and that is why perhaps, his work has provoked extremes of reaction. While it has moved some to tears, it has angered others so much so that Salgado has faced tremendous opposition to exhibiting or publishing his works in places.
          I am trying to catch what I can of Genesis, from wherever I can, on the internet. The book has been released in Europe on May 1, but will not be available in the US until mid-June. I am never able to view more than a few of Salgado’s pictures at a time. I have to stop, and let it all seep in. Every time I view or think of them, I am confronted with the truth of my utter insignificance before the vast problems humankind has created for itself. “C’est émotionelle,” (“It’s emotional”) says Salgado, describing the appeal of his work in an interview in one of the videos on the Amazonas Images site. True, though it could perhaps be said of his work what T.S. Eliot said of the metaphysical poets—that their kind of poetry was one in which thought became feeling and feeling became thought. This is why photographers find unparalleled aesthetic finesse in Salgado’s work, and even if you are not interested in photographic technique, you still know you are beholding something very, very special. It is a very happy marriage of content and form, so that form never comes across as obtrusive.
          Introducing Genesis recently in Longbeach, California, Salgado narrated how he came to photograph as he does, and in due course recounted what a deeply physical toll his engagement with photography had taken on him. In a video of the event (which you can watch by clicking here) he talks of a time when he would not ejaculate but emit blood when he made love with his wife. He was told by his doctor that he was clinically alright, but he had witnessed way too much death around him in Rwanda, so that he was dying inside, and the only medicine was to stop his work for some time. And stop he did, and that was how Genesis came into being. He went back to Brazil, and his family gave him and his wife the land they owned in the countryside, which was forested once upon a time. The Salgados wanted to renew the land as it once was, covered by a rainforest, and began an environmental project, a global expression of which is embodied by Genesis. In course of time Salgado envisioned another multi-year-long project that would comprise photographs of areas of the earth as yet untouched by modernization, of peoples who have had no contact outside their immediate communities or tribes, and still keep to their traditional ways of life, and patterns of economic organization.  I became part of the rapt North American audience that I watched on video, listening to Salgado telling his story in his English inflected by his Brazilian Portuguêse, and what came through was the sheer energy and lifelong commitment of the man to register felt reality in all its intensity in the images he made. It is this deep existential charge that animates every single picture of Salgado’s, so that even before you know his story, you sense there is an exceptional story. From what I have seen of Genesis so far, the closest literary equivalent I can think of is the Sri Lankan novelist Romesh Gunesekara’s ineffably beautiful and indescribably sad novel Heaven’s Edge.
          The reception and circulation of Salgado’s work is informed by a paradox, which interests me particularly. The subjects of his representation do not get to see the final body of work in which they are represented, although Salgado stays with them for days and interacts very closely during the time he photographs. As he says himself, by the time he photographs them, he knows their story, and they know his, and sometimes the subjects even determine how they want to be photographed. Nevertheless, they are untouched by modernization in the same way as those viewers of Salgado who have access to his works in published form. In this sense his work is not unlike the work of anthropologists, and particularly anyone working with a postcolonial agenda, although Salgado has himself resisted the label ‘anthropologist’.  His work also raises some deep questions about the very nature of art. If the best art must be that which evokes  the deepest sadness in its audience, is it not then at odds with such suffering? Is the art not in some sense protesting the loss it depicts, and the sense of loss that it evokes in its audience? Salgado, though, talks of Genesis as a project of hope, as a way of showing that there are still parts of the earth that are as pristine as they were when the world began. He is said to be fond of stating the statistic that 45% of the earth is in such an uncorrupted state. But this statistic looks hopeful only because of one recognizes the real threat of environmental pollution, the irrevocability of modernization, and the rapacious greed fostered by capitalist consumerism.  Salgado’s photographs are a clarion call to action, and yet when you think of it, in a perfect world, where his vision would be realized, there would be no occasion for such pictures. There are no ready answers to any of the questions these pictures ask of us. Who must this first person plural I have just used mean, and by implication, who are the others? It is a war between the brooding sense of the fact that our planet is slowly dying, and a contrary, desperate will to make it all turn out otherwise that we are left with.

Text © DURBA BASU